বগুড়ায় অসহায় বন্যাত্বদের ত্রান বিতরন
বগুড়ায় প্রতিবছর বন্যার কারন ও এর প্রভাব
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানা যায়-বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে (বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা) প্রতিবছরই বন্যা হয়। সাধারনত বছরের জুলাই মাসে বেশি এবং ভারী বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে এ সময় পানি বাড়ে এবং বিপদসীমার বাইরে গিয়ে জুলাইয়ের মধ্যভাগের দিকে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তৈরী হয়। ওই সময়ে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকে এবং কিছু এলাকায় পানি বিপদসীমার বাইরে চলে যায়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিতে
গঠিত
বিশেষজ্ঞ কমিটি
তাদের
পূর্বাভাসে জানিয়েছে, প্রতি
বছর
জুলাই
মাসে
সামগ্রিকভাবে দেশে
স্বাভাবিকের চেয়ে
বেশি
বৃষ্টি
হয়
ফরে
ভারী
বৃষ্টির কারণে
দেশের
বিভিন্ন স্থানে
বন্যা
পরিস্থিতি সৃষ্টি
হয়।
কারন
জুলাইয়ে বঙ্গোপসাগরে এক
থেকে
দুটি
লঘুচাপ
সৃষ্টি
হয়,যার মধ্যে একটি
মৌসুমি
নিম্নচাপে পরিণত
হয়।
এছাড়া
সাধারনত দেশের উত্তর,
উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তিন-চারদিন বিজলিসহ মাঝারি
ধরনের
বজ্রঝড়
হয়ে থাকে। সারাদেশে পাঁচ-ছয়দিন বিজলিসহ হালকা
বজ্রঝড়
হয়।
এ
কারণে
উত্তরাঞ্চল ও
মধ্যাঞ্চলে বন্যার
পদধ্বনি দেখা
দিয়ে থাকে।
জুলাই
মাসে
মৌসুমি
ভারী
বৃষ্টিপাতজনিত কারণে
দেশের
উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের কতিপয়
স্থানে
অল্প
থেকে
মধ্যমেয়াদি বন্যা
পরিস্থিতির সৃষ্টি
হতে
থাকে।
অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার কতিপয়
স্থানে
স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা
পরিস্থিতির সৃষ্টি
হয়ে থাকে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং
জলবায়ু
পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ গন
বলেন,
প্রকৃতি বদলাচ্ছে। আমাদের
অবশ্যই
প্রকৃতিকে বুঝতে
হবে।
বাংলাদেশের সিলেট
বিভাগে
বৃষ্টি
বেশি
হওয়ায়
এবং
ভারতের
মেঘালয়
ও
আসামে
বেশি
বৃষ্টি
হওয়ায়
সাধারনত সিলেট ও
সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা বন্যায়
বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।
এজন্যই ধারন ক্ষমতার চেয়ে পানি বেশি হওয়ায় লোকালয় প্লাবিত হয়। কিন্তু সিলেটের বন্যা আর গাইবান্ধার বন্যা কখনই এক না। সিলেটের পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কিন্তু গাইবান্ধা বা বগুড়ার পানি সহজে নামবে না। বিশেষ করে আমাদের উজানে ভারতের মেঘালয়ে একদিনে ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটলেই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কারণ আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীব্যবস্থা এত স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি পরিবহন করতে পারে না।
No comments