পদ্মা নদীর তীরের মানুষের জীবন,জীবিকা, আনন্দ বেদনা পরিদর্শন।
ইতিহাসঃ ভারতের আন্তর্জাতিক গঙ্গা নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও ভাটির দেশ বাংলাদেশে এর ভয়াবহ প্রভাব
আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে ভারত আন্তর্জাতিক গঙ্গা নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে ভাটির দেশ বাংলাদেশকে হুমকির সন্মুখিন করে তুলেছিল-যা অদ্যাবধি আছে। ফারাক্কায় বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী এর প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভারত ফারাক্কায় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে তৎপরতা শুরু হলে তৎকালীন সরকার এর প্রতিবাদ করে। তখন ভারত বলেছিল এটা অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে।
এ নিয়ে ১৯৬০ সালে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক হয়। তবে ১৯৬১-৬২ সালে ভারত
গোপনে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। এ কাজে সহায়তাকারী
দেশ সোভিয়েত রাশিয়া এবং এর খরচ ধরা হয় এক বিলিয়ন
ডলার।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা
অর্জনের পর ভারত ফারাক্কার
সংযোগ খালের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে। ১৯৭৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা ব্যারেজ চালু করার ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর নানা কৌশলে ২১ এপ্রিল ১৯৭৪
থেকে ৪১ দিনের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে ফারাক্কা ব্যারেজ চালু করা হয়। যেটি আর বন্ধ হয়নি,
আজ প্রায় ৫০ বছর পেরিয়ে
গেলেও সেটা পরীক্ষামূলকভাবে চালুই রয়ে গেছে।
মাওলানা ভাসানি ফারাক্কা ব্যারেজ চালু হবার পর থেকে পদ্মায়
একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ সবকিছুর উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঠেকানোর জন্য ছিল তাঁর এই আন্দোলন। ভারত
প্রতিবছর ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে বর্ষার অতিরিক্ত পানি আটকাতে না পেরে সব
গেইট খুলে দিলে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে বর্ষায় ভয়াল রূপ, বন্যা ও নদীভাঙ্গন দেখা
দেয়। অপর দিকে খরার সময় ভারত ফারাক্কা ব্যারেজের
সব গেট বন্ধ করে দেয় ফলে বিরুপ অবস্থা সৃষ্টি হয় । সুতরাং ফারাক্কা ব্যারেজ এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে
সরকারের উচিৎ হবে দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা।

No comments